ব্রি ধান৯৫

আমন

ব্রি ধান৯৫
মৌসুম
আমন
শস্য বিন্যাস
বোরো-পতিত-রোপা আমন, পতিত-পতিত-রোপা আমন, সরিষা-বোরো-রোপা আমন, গম-পাট-রোপা আমন, পেঁয়াজ-পাট-রোপা আমন, সরিষা-আউশ-রোপা আমন, পতিত-আউশ-রোপা আমন
জমির ধরন
উঁচু ও মধ্যম উঁচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর অঞ্চলসহ বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চল
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

ব্রি ধান৯৫ রোপা আমন মৌসুমের জাত। এর কৌলিক সারি BR8210-10-3-1-2। সারিটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা  ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত লাল স্বর্ণা এবং Barisail/PSBRC2 এর F1 সাথে Three way cross করে বংশানুক্রম সিলেকশন (Pedigree Selection) এর মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়।  জাতটিকে ২০১৯ সালে বীজ বোর্ড অনুমোদিত করে।

জাতের বৈশিষ্ট্য

গাছের উচ্চতা ১২০ সে.মি. । জীবনকাল ব্রি ধান ৪৯ এর চেয়ে ৭ দিন কম। এটি স্বর্ণা ধরণের রোপা আমন ধান।

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

এটি রোপা আমন মওসুমের জন্য স্বর্ণা ধরণের আধুনিক ধানের জাত। ব্রি ধান৯৫ স্বর্ণা জাতের ধানের পরিবর্তে চাষাবাদে লাভজনক।

জীবনকাল

১২৫ দিন

ফলন

গড় ফলন ৫.৭ টন/হে., তবে অনুকূল পরিবেশ ও উপযুক্ত পরিচর্যায় ৬.৫ টন/হে. পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

অ্যামিলোজ

২৮%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১০ জুলাই-১০ আগস্ট

. চারা বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ ২৫-৩০ দিন, চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২সেমি 

. চারা রোপণের সময়ঃ  ৫ আগস্ট-১০ সেপ্টেম্বর

. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি সুস্থ সবল চারা

৫. সার ব্যবস্থাপনা

আলোক অসংবেদনশীল স্বল্প মেয়াদী আমন ধানের জাত।

সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা (কেজি/বিঘা): ২০-৭-১১-৮

জমি তৈরির শেষ চাষে ১/৩ অংশ ইউরিয়া এবং সমূদয় ডিএপি/টিএসপি, এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ইউরিয়া সমানভাগে দুই কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি চারা রোপনের ১০-১৫ দিন পর এবং ২য় কিস্তি কাইচথোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড় আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Ø  ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০ সেমি ×২০ সেমি) ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে সম্পুরক সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপক্ক পর্যায়ের দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের জন্য জমিতে অবশ্যই সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ১১ কার্তিক - ১১ অগ্রহায়ণ (২৭ নভেম্বর - ২৭ ডিসেম্বর)