ব্রি ধান৯৭

বোরো

ব্রি ধান৯৭
মৌসুম
বোরো
শস্য বিন্যাস
বোরো-পতিত-পতিত, বোরো-পতিত-রোপা আমন, বোরো- রোপা আউশ-রোপা আমন- সরিষা-বোরো-রোপা আমন, সরিষা-বোরো-পতিত
জমির ধরন
সেচ নির্ভর উঁচু, মধ্যম উঁচু এবং মধ্যম নিচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত অঞ্চলের জন্য উপযোগী
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

ব্রি ধান৯৭ এর কৌলিক সারি IR83484-3-B--7-1-1-1। সারিটি আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ফিলিপাইনে IRRI113 এবং BRII dhan40 এর সংকরায়ন করে ও ব্রি’তে বংশানুক্রম সিলেকশন (Pedigree Selection) এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত। উক্ত সারিটি আন্তর্জাতিক  ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট হতে Introdiction এর মাধ্যমে F4 Genaration-এ সংগ্রহ করে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে পরীক্ষা নিরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল দেয়। পরবর্তীতে জাতটিকে বীজ বোর্ড ২০২০ সালে বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত হিসেবে ছাড়করণ করে।

জাতের বৈশিষ্ট্য

গাছের উচ্চতা ১০০ সে.মি., ডিগ পাতা খাড়া, প্রশস্ত লম্বা, পাতার রং গাঢ় সবুজশীষ থেকে ধান সহজে ঝরে পড়ে নাগাছের গোড়া গাঢ় বাদামি বর্ণের

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

ব্রি ধান৯৭ চারা অবস্থায় ১৪ ডিএস/মি. পর্যন্ত এবং অংগজ বৃদ্ধি থেকে প্রজনন পর্যায় পর্যন্ত -১০ ডিএস/মি. মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য  করেও ভাল ফলন দিতে পারেজাতটি অপর লবণাক্ততা সহনশীল জাতসমূহ যেমন, ব্রি ধান৬৭ এর চেয়ে অধিকতর লবণাক্ততা সহনশীল

জীবনকাল

১৫২ দিন

ফলন

লবণাক্ততার মাত্রাভেদে হেক্টর প্রতি .৯৩-.৯৫ টন ফলন দিতে পারেতবে, উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকূল পরিবেশে হেক্টর প্রতি . টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম

অ্যামিলোজ

২৫.২%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১৫-২৯ নভেম্বর (কৃষি অঞ্চল এবং ইকো সিস্টেম ভেদে ভিন্ন হতে পারে)

২. চারা বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ ৩৫-৪০ দিন, চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২০ সেমি  অথবা ২০ সেমি×২০ সেমি

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ২০ ডিসেম্বর- ১০ জানুয়ারি (কৃষি অঞ্চল এবং ইকো সিস্টেম ভেদে ভিন্ন হতে পারে)

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি সুস্থ সবল চারা

৫. সার ব্যবস্থাপনা (কেজি/বিঘা): ইউরিয়া-টি এস পি/ ডি এ পি- এম ও পি-জিপসাম-দস্তা (মনো হাইড্রেট); ৩৫-১২-২০-১৫-১.৫ (স্বল্প জীবনকাল জাতের জন্য); ৪০-১৩-২২-১৫-১.৫ (দীর্ঘ মেয়াদি জাতের জন্য)

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫ দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০ সেমি ×২০ সেমি) ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ চারা রোপনের ১৫ দিন পর থেকে কাইচ থোড় অবস্থা পর্যন্ত জমিতে এডব্লিউডি পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করতে হবে। কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপূর্ন ফুল আসা পর্যন্ত জমিতে দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে। স্থানভেদে ধান পরিপক্ক হওয়ার ১০-১৫ দিন পূর্বে সেচ প্রদান বন্ধ করতে হবে এবং জমি থেকে দাঁড়ানো পানি বের করে দিতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ১ - ১৫ বৈশাখ (১৪ - ২৮ এপ্রিল)