ব্রি ধান২৮

বোরো

ব্রি ধান২৮
মৌসুম
বোরো
শস্য বিন্যাস
সরষিা-বোরো-রোপা আমন, বোরো-পততি-রোপা আমন, বোরো (স্বল্প জীবনকাল)-সবুজ সার (ধৈঞ্চা)-রোপা আমন, আলূ-বোরো-রোপা আমন
জমির ধরন
সেচ নির্ভর উঁচু, মাঝারি উঁচু ও মাঝারি নিচু
উপযুক্ত এলাকা
বাংলাদেশের লবণাক্ত এলাকা ব্যতিত সকল অঞ্চল
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

১৯৯৪ সালে এই জাতটি বীজ বোর্ড কর্তৃক চাষাবাদের জন্য অনুমোদিত হয়। ব্রি ধান২৮ বোরো মওসুমের অধিক ফলনশীল একটি আগাম জাত।

জাতের বৈশিষ্ট্য

পূর্ণবয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ৯০ সে:মি:।

পাকার সময় ধানের শিষ উপরে থাকে। চাল মাঝারি চিকন ও সাদা।ভাত ঝরঝরে ও খেতে সুস্বাদু।

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

এই জাতটি বোরো মওসুমের জনপ্রিয় জাত। গাছের জীবনকাল ব্রি ধান২৯ এর চেয়ে ৩ সপ্তাহ কম হওয়ায় আগাম জাত হিসেবে চাষ করা যায়। জাতটি আগাম, তাই বন্যাপ্রবন যেসব এলাকায় পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যায় সেসব এলাকায় চাষযোগ্য। এ ধানের মুড়ি ভালো হয়।

জীবনকাল

বোরো মওসুমে ১৪০ দিন।

ফলন

বোরো মওসুমে ফলন হেক্টর প্রতি প্রায় ৬.০ টন।

অ্যামিলোজ

২৮%

চাষাবাদ পদ্ধতি

. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১৫-২৯ নভেম্বর ( কৃষি অঞ্চল এবং ইকো সিস্টেম ভেদে ভিন্ন হতে পারে)

. চারা বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ ৩৫-৪০ দিন, চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২০সেমি   অথবা ২০সেমি×২০ সেমি

. চারা রোপণের সময়ঃ  ২০ ডিসেম্বর- ১০ জানুয়ারি ( কৃষি অঞ্চল এবং ইকো সিস্টেম ভেদে ভিন্ন হতে পারে)

. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি সুস্থ সবল চারা

৫. সার ব্যবস্থাপনা (কেজি/বিঘা): সারেরমাত্রাঃইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা (কেজি/বিঘা): ৩৫-১২-২০-১৫-১.৫

এটি একটি স্বল্প মেয়াদি বোরো ধানের জাত। স্বল্প মেয়াদী ধানের জাতের জন্য টিএসপি, এমওপি, জিপসাম ও দস্তা সারের পুরোটাই জমি চাষের শেষ পর্যায়ে প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সমান তিন ভগে প্রয়োগ করতে হবে। নিম্ন উর্বর জমির ক্ষেত্রে ১/৩ অংশ ইউরিয়া সার জমি চাষের শেষ পর্যায়ে, ১/৩ অংশ ইউরিয়া সার চারা রোপনের ২০-২৫ দিন পর এবং ১/৩ অংশ ইউরিয়া কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

মধ্যম ও উর্বর জমির ক্ষেত্রে, ১/৩ ইউরিয়া সার চারা রোপনের ১০-১৫ দিন পর এবং বাকী দুই কিস্তি ইউরিয়া সার চারা রোপনের যথাক্রমে ৩০-৩৫ দিন কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

Ø  ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) ৩০০কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনা পচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

৬. আগাছা দমনঃ তিনটি অপশনঃ

·         হাত নিড়ানিঃ  দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি।ধান লাগানোর  ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

·         আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ  এবং পরবর্তিতে  ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি-ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

·         নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ চারা রোপনের ১৫ দিন পর থেকে কাইচ থোড় অবস্থা পর্যন্ত জমিতে এডব্লিউডি পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করতে হবে। কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপূর্ন ফুল আসা পর্যন্ত জমিতে দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে। স্থানভেদে ধান পরিপক্ক হওয়ার   ১০-১৫ দিন পূর্বে সেচ প্রদান বন্ধ করতে হবে এবং জমি থেকে দাঁড়ানো পানি বের করে দিতে হবে।

৮.ফসলপাকা ও কর্তনঃ ২০ চৈত্র - ৫ বৈশাখ (৩ - ১৮ এপ্রিল)