বি আর৫

আমন

বি আর৫
মৌসুম
আমন
শস্য বিন্যাস
বোরো-পতিত-রোপা আমন, পতিত-পতিত-রোপা আমন, সরিষা-বোরো-রোপা আমন, গম-পাট-রোপা আমন, পেঁয়াজ-পাট-রোপা আমন, সরিষা-আউশ-রোপা আমন, পতিত-আউশ-রোপা আমন
জমির ধরন
উঁচু ও মধ্যম উঁচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
সাধারণত দক্ষিণাঞ্চল ব্যতীত বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চল
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

বি আর৫ আমন মৌসুমের ধান। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট ১৯৭৬ সালে   স্থানীয় বাদশাভোগ ধান থেকে বিশুদ্ধ  সারি বাছাইকরণের পদ্ধতিতে  বিআর৫  জাতটি উদ্ভাবন করে। জাতটির জনপ্রিয় নাম দুলাভোগ।

জাতের বৈশিষ্ট্য

বি আর৫ (দুলাভোগ) কেবলমাত্র রোপা আমন মওসুমে আবাদযোগ্য সুগন্ধি ছোট দানার ধানের জাত। এ ধানের চাল সুগন্ধি বিধায় পোলাও তৈরি করার জন্য খুব উপযোগী। চাল ছোট ও গোলাকৃতি ও সুগন্ধি, হাই ইলংগেশন ও এ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এর উচ্চতা ১২০ সে.মি.।

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

এ ধানের ফলন স্থানীয় জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন এবং বাজার মূল্য ভাল বিধায় এ জাত চাষ করে কৃষকগণ লাভবান হতে পারেন। এটি একটি আলোক সংবেদনশীল জাত বলে ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বপন করে ভাল ফলন পাওয়া যাবে। অর্থাৎ নাবী আমন চাষের জন্যও এ জাতটি উপযুক্ত।

জীবনকাল

১৫০ দিন

ফলন

হেক্টর প্রতি ৩.০ টন

অ্যামিলোজ

২৬%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ২৫-৩০ জুলাই

২. চারাবয়স ও রোপণদূরত্বঃ ২৫-৩০ দিন। চারার দূরত্ব ১৫ সেঃমিঃ, সারির দূরত্ব ২৫ সেঃমিঃ

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ২০ আগস্ট-২৫ আগস্ট

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি

৫. সার ব্যবস্থাপনা

এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদী রোপা আমন ধানের জাত

সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম- (কেজি/বিঘা): ২৬-৮-১৪-৯-০

জমি তৈরীর শেষ চাষে সমুদয় ডিএপি/টিএসপি, এমওপি, জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সমান ভাবে তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি চারা রোপনের ৭-১০ দিন পর, ২য় কিস্তি চারা রোপনের ২৫-৩০ দিন পর এবং ৩য় কিস্তি কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড় আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Ø  ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩০-৩৫ দিন পর একবার হাত নিড়ানি।প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৩৫ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে সম্পুরক সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপক্ক পর্যায়ের দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের জন্য জমিতে অবশ্যই সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।

. পোকামাকড় দমন ব্যবস্থাপনাঃ বাদামি ও সাদা-পিঠ গাছফড়িং প্রতিরোধী

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ১০ - ১৫ অগ্রহায়ণ (২৪ - ২৯ নভেম্বর)