ব্রি ধান৪৯
আমন
- মৌসুম
- আমন
- শস্য বিন্যাস
- বোরো-পততি-রোপা আমন, বোরো (স্বল্প জীবনকাল)-সবুজ সার (ধৈঞ্চা)-রোপা আমন, আলু-পাট-রোপা আমন
- জমির ধরন
- উঁচু ও মাঝারি উঁচু
- উপযুক্ত এলাকা
- ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর অঞ্চলসহ বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চল
জাত পরিচিতি
ব্রি ধান ৪৯ রোপা আমনে বিআর১১ এর বিকল্প উফশী জাত (চাল নাইজারশাইলের মতো)
জাতের বৈশিষ্ট্য
পূর্ণবয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০০ সে:মি:।
চাল বিআর১১ ও ব্রি ধান৩২ এর চেয়ে চিকন।
চাল মাঝারি মোটা ও সাদা।
বিশেষ প্রয়োজনীয়তা
এই জাতটি আমন মওসুমের জনপ্রিয় জাত। চাল নাজিরশাইল এর মতো। গাছের জীবনকাল বিআর ১১ এর চেয়ে ৭ দিন কম ও ফলন বেশী।
জীবনকাল
ফলন
অ্যামিলোজ
চাষাবাদ পদ্ধতি
১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১৫ জুন-১৪ জুলাই
২. চারা বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ ২৫-৩০ দিন, চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২৫সেমি / ২০সেমি×২০ সেমি
৩. চারা রোপণের সময়ঃ ১০ জুলাই- ১৫ অগাস্ট
৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি সুস্থ সবল চারা
৫. সার ব্যবস্থাপনা (কেজি/বিঘা): এটি
একটি আলোক অসংবেদনশীল দীর্ঘ ও মধ্যম মেয়াদি ধানের জাত
সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম
(কেজি/বিঘা): ২৬-৮-১৪-৯
জমি তৈরীর শেষ চাষে সমুদয় ডিএপি/টিএসপি, এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া
সমান তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি চারা রোপনের ৭-১০ দিন পর, ২য় কিস্তি
চারা রোপনের ২৫-৩০ দিন পর এবং ৩য় কিস্তি কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে
হবে।
Ø ডিএপি সার
ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।
Ø ধানের জমি তৈরির সময় বিঘাপ্রতি (৩৩ শতক) ৩০০কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনা পচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।
৬. আগাছা দমনঃ তিনটি অপশন
·
হাত নিড়ানিঃ দউইবার/ তিনবার হাত নিড়ানি।ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং
যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার
·
আগাছানাশক
প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০দিন পর একবার হাত নিড়ানি।
প্রি-ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট
ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।
·
নিড়ানি যন্ত্রের
সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে ধান লাগানোর
১২-১৫ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।
৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর
হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে সম্পুরক সেচ দিয়ে রোপন করতে
হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপক্ক পর্যায়ের দুধ অবস্থা পর্যন্ত
অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের জন্য জমিতে অবশ্যই সম্পূরক সেচ প্রদান করতে
হবে।
৮. ফসলপাকা ও কর্তনঃ ১০-১৫ অগ্রহায়ণ (২৪ - ২৯ নভেম্বর)