বি আর২৩
আমন
- মৌসুম
- আমন
- শস্য বিন্যাস
- বোরো-পতিত-রোপা আমন, পতিত-পতিত-রোপা আমন, সরিষা-বোরো-রোপা আমন, গম-পাট-রোপা আমন, পেঁয়াজ-পাট-রোপা আমন, সরিষা-আউশ-রোপা আমন, পতিত-আউশ-রোপা আমন
- জমির ধরন
- উঁচু ও মধ্যম উঁচু জমি
- উপযুক্ত এলাকা
- সাধারণত বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চল
জাত পরিচিতি
বি আর২৩(দিশারী) একটি নাবী আমন ধানের জাত। অর্থাৎ বন্যা-পরবর্তী রোপণ উপযোগী আলোক সংবেদনশীল একটী জাত। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট১৯৮৮ সালে এটিকে অনুমোদন দেয়।
জাতের বৈশিষ্ট্য
এই জাতটি প্রায় একই সময়ে উদ্ভাবিত বি আর২২ এর মতই আলোক সংবেদনশীল এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় বন্যা পরবর্তী সময়ে নাবী আমন হিসাবে চাষাবাদের জন্য একটি আধুনিক ধানের জাত। গাছের উচ্চতা ১২০ সে.মি.। চাল লম্বা, চিকন ও সাদা।
বিশেষ প্রয়োজনীয়তা
বন্যাপ্রবণ এলাকায় বি আর২২, নাইজারশাইল ও বিনাশাইল ধানের মতই বি আর২৩ নাবী আমন হিসাবে চাষ করা যায়। উপরন্তু, লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত হিসাবে বি আর২৩ এর উদ্ভাবন না হলেও জাতটিতে প্রকৃতিগতভাবেই কিছুটা লবণাক্ততা সহিষ্ণুতার গুণ আছে, ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকাতে ও লবণ পানির চিংড়ি ঘেরের মধ্যে বি আর২৩ এর চাষ হয়ে থাকে। এছাড়া এ জাতটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলে জোয়ার-ভাটার কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবেলায় নাবী রোপা আমন হিসাবেও আবাদযোগ্য।
জীবনকাল
ফলন
অ্যামিলোজ
চাষাবাদ পদ্ধতি
১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১৫ জুন-৯
আগস্ট
২. চারার বয়স
ও রোপন দুরত্বঃ ৩০-৫০ দিন এবং এবং চারার দূরত্ব ১৫সেমি×সারির দূরত্ব ২৫ সেঃমিঃ।
৩. চারা
রোপণের সময়ঃ ১৫ জুলাই-১৫ সেপ্টেম্বর
৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি
৫. সার ব্যবস্থাপনা
এটি রোপা আমন মওসুমে নাবীতে
রোপন উপযোগী আলোক সংবেদনশীল ধানের জাত
সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা
(কেজি/বিঘা): ২৩-৯-১৩-৮
জমি তৈরির শেষ চাষে ২/৩ অংশ ইউরিয়া
এবং সমূদয় টিএসপি/ডিএপি, এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ইউরিয়া কাইচ থোড় আসার
৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।
গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড়
আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার
উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
Ø ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি
কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।
Ø ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক)
৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া
ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।
৬. আগাছা দমনঃ
তিনটি অপশনঃ
•
হাত নিড়ানিঃ দুইবার
নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫
দিন পর একবার
•
আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি
বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩০-৩৫ দিন পর একবার হাত
নিড়ানি।প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫ দিন পর) এবং
পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।
•
নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে
আগাছা দমনঃ লাইন করে ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে
৩০-৩৫ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।
৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন
ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে সম্পুরক
সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপক্ক পর্যায়ের
দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের জন্য জমিতে অবশ্যই
সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।