ব্রি ধান২৭

আউশ

ব্রি ধান২৭
মৌসুম
আউশ
শস্য বিন্যাস
পতিত-রোপা আউশ-রোপা আমন, খেসারী/মুগ-রোপা আউশ-রোপা আমন,গম-রোপা আউশ-রোপা আমন
জমির ধরন
উঁচু এবং মধ্যম নিচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চল, তবে বৃহত্তর বরিশাল
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

ব্রি ধান২৭ ব্রি উদ্ভবিত বোনা আউশ মৌসুমের জন্য লম্বা ধান গাছের একটি জাত। জাতীয় বীজ বোর্ড ১৯৯৪ সালে এটিকে জাত হিসেবে অনুমোদন দেয় । বিআর২৭ বোনা ও রোপা  দুভাবেই আউশ মৌসুমে বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলার অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগী।

জাতের বৈশিষ্ট্য

এটি বোনা ও রোপা আউশ ধান হিসাবে আবাদযোগ্য ব্রি উদ্ভাবিত লম্বা ধান গাছের একটি আধুনিক জাত। উচ্চতা ১৪০ সে.মি.। গাছ উঁচু হলেও ঢলে পড়ে না।গাছের গোড়ার দিকে পাতার খোল কিছুটা বেগুনী রঙের। চাল মাঝারি মোটা যা বরিশাল আঞ্চলের মানুষ কর্তৃক সমাদৃত।

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

ব্রি ধান২৭ বোনা ও রোপা দু’ভাবেই আউশ মওসুমে বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা কবলিত অঞ্চলে চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগী।

জীবনকাল

১১৫ দিন

ফলন

উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ব্রি ধান২৭ হেক্টর প্রতি ৪.০ টন ফলন দিয়ে থাকে।

অ্যামিলোজ

২৭.৫%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ বোনাঃ ২৪মার্চ-২৩এপ্রিল; রোপাঃ ১৮-৩০এপ্রিল  

২. চারার বয়স ও রোপন দুরত্বঃ বোনা/রোপা

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ২৪ মার্চ- ২৩ এপ্রিল/ ১৮ এপ্রিল-১০ মে

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি

৫. সার ব্যবস্থাপনা

এটি একটি রোপা আউশ ধানের জাত

সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা (কেজি/বিঘা): ১৮-৭-১১-০-০

ইউরিয়া সার সমান ভাগে তিন কিস্তিতে প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ইউরিয়া সার এক তৃতীয়াংশ, টিএসপি/ডিএপি ও এমওপি সারের পুরোটা মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। ২য় কিস্তি ইউরিয়া সার (১/৩) সাধারণত রোপনের ১৫ দিন পর এবং শেষ কিস্তি (১/৩ ইউরিয়া) ইউরিয়া সার কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড় আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Ø  ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩০-৩৫ দিন পর একবার হাত নিড়ানি।প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৩৫ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ চারা রোপনের ১৫ দিন পর থেকে কাইচ থোড় অবস্থা পর্যন্ত জমিতে এডব্লিউডি পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করতে হবে। কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপূর্ন ফুল আসা পর্যন্ত জমিতে দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে। স্থানভেদে ধান পরিপক্ক হওয়ার   ১০-১৫ দিন পূর্বে সেচ প্রদান বন্ধ করতে হবে এবং জমি থেকে দাঁড়ানো পানি বের করে দিতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ৩০শ্রাবণ-২০ভাদ্র (১৪ আগষ্ট-৪ সেপ্টেম্বর)