ব্রি ধান৩৭
আমন
- মৌসুম
- আমন
- শস্য বিন্যাস
- বোরো-পতিত-রোপা আমন, পতিত-পতিত-রোপা আমন, সরিষা-বোরো-রোপা আমন, গম-পাট-রোপা আমন, পেঁয়াজ-পাট-রোপা আমন, সরিষা-আউশ-রোপা আমন, পতিত-আউশ-রোপা আমন
- জমির ধরন
- উঁচু ও মধ্যম উঁচু জমি
- উপযুক্ত এলাকা
- সাধারণত বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চল। দেশের উত্তরাঞ্চলে অধিকতর উপযোগী।
জাত পরিচিতি
ব্রি ধান৩৭ একটি আমন জাতের সুগন্ধি ধান। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ১৯৯৮ সালে বাসমতি এবং বিআর৫-এর মধ্যে সঙ্করায়ণ করে
জাতটি উদ্ভাবন করে। ব্রি ধান৩৭-এর গাছ কাটারিভোগের চেয়ে অনেক মজবুত, তবে জীবনকাল ৫-৭ দিন বেশী।
জাতের বৈশিষ্ট্য
ব্রি ধান৩৭ একটি রপ্তানীযোগ্য সুগন্ধি
ধানের জাত।
গাছ কাটারিভোগ গাছের চেয়ে অনেক মজবুত,
তবে জীবনকাল ৫-৭ দিন বেশী।
ধানের ছড়া দেখতে আকর্ষণীয় এবং ছড়ায় ধানের
গাঁথুনি বেশ ঘন।
ধানের দানার শেষ প্রান্ত একটু বাঁকা এবং
সূঁচালো ।
বিশেষ প্রয়োজনীয়তা
জীবনকাল
ফলন
অ্যামিলোজ
চাষাবাদ পদ্ধতি
১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ২০-২৫
জুলাই
২. চারার বয়স
ও রোপন দুরত্বঃ ২৫-৩০ দিন এবং চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২০সেমি
৩. চারা রোপণের সময়ঃ ১৫
আগস্ট-২৫ আগস্ট
৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি
৫. সার ব্যবস্থাপনা
এটি রোপা আমন ধানের একটি স্বল্প
আলোক সংবেদনশীল ধানের জাত
সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা
(কেজি/বিঘা): ১২-৭-৮-৬
ইউরিয়া সার সমান ভাগে তিন কিস্তিতে
প্রয়োগ করতে হবে। শেষ চাষে ১/৩ অংশ ইউরিয়া এবং সমূদয় টিএসপি/ডিএপি/এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ
করতে হবে। ২য় কিস্তি ইউরিয়া সার চারা রোপনের ১০-১৫ দিন পর ও ৩য় কিস্তি কাইচ থোড় আসার
৫-৭ পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।
গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড়
আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার
উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
Ø ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি
কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।
Ø ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক)
৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া
ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।
৬. আগাছা দমনঃ
তিনটি অপশনঃ
•
হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা
তিনবার হাত নিড়ানি।ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫
দিন পর একবার
•
আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি
বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত
নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং
পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।
•
নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে
আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০সেমি ×২০ সেমি) ধান
লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত
দিয়ে নিড়ানি।
৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন
ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে সম্পুরক
সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপক্ক
পর্যায়ের দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের জন্য
জমিতে অবশ্যই সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।