ব্রি ধান৪০
আমন
- মৌসুম
- আমন
- শস্য বিন্যাস
- বোরো-পতিত-রোপা আমন, বোরো- রোপা আউশ-রোপা আমন, পতিত-পতিত-রোপা আমন
- জমির ধরন
- উঁচু ও মধ্যম উঁচু জমি
- উপযুক্ত এলাকা
- দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত অঞ্চলের জন্য উপযোগী
জাত পরিচিতি
জাতের বৈশিষ্ট্য
এটি একটি আলোক-সংবেদনশীল জাত, লবণাক্ততা
সহিষ্ণু।
ব্রি ধান৪০ এর গাছের উচ্চতা ১১০ সে.মি.।
কান্ড মজবুত, তাই হেলে পড়ে না।
বিশেষ প্রয়োজনীয়তা
দেশের দক্ষিণের উপকুলীয় অঞ্চলে ঐতিহ্যগতভাবে রোপা আমন মওসুমে স্থানীয় জাত যেমন, রাজাশাইল, কাজলশাইল, পাটনাই, মরিচশাইল, লক্ষীশাইল, ইত্যাদি আবাদ হয়ে আসছে কিন্তু এই স্থানীয় জাতসমূহের ফলন কম। এসব অঞ্চলে আধুনিক জাত ব্রি ধান৪০ আবাদ করা যায়। চারা ও থোড় অবস্থায় ব্রি ধান৪০ সাধারণত ৮ ডিএস/মিটার(ফঝ/স) মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে এবং জীবন কালের পরবর্তী স্তরেও, অর্থাৎ ফুল আসা থেকে ধান পাকা পর্যন্ত সময়েও মধ্যম মাত্রার লবণাক্ততা সহনশীল, কাজেই লবণাক্ত অঞ্চলে স্থানীয় জাতের পরিবর্তে ব্রি ধান৪০ চাষ করে সহজেই অন্তত দ্বিগুণ ফলন পাওয়া যেতে পারে। উপরন্তু, এই জাতের ৪০-৫০ দিন বয়সী চারা বেশ লম্বা হওয়ায় হাঁটু সমান পানিতেও চারা রোপন করা যায়, যা উপকুলীয় অঞ্চলের একটি অতিরিক্ত সমস্যা অর্থাৎ, জলাবদ্ধতা, মোকাবিলায় সহায়ক।
জীবনকাল
ফলন
অ্যামিলোজ
চাষাবাদ পদ্ধতি
১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ২৪ জুন-১৫
জুলাই
২. চারার বয়স
ও রোপন দুরত্বঃ ৩০-৪০ দিন এবং চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২৫সেমি
৩. চারা রোপণের সময়ঃ ২৪
জুলাই – ২৫ আগস্ট
৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩টি।
৫. সার ব্যবস্থাপনা
এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদী রোপা
আমন ধানের জাত
সারের মাত্রাঃইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা
(কেজি/বিঘা): ২৬-৮-১৪-৯
জমি তৈরির শেষ চাষে সমূদয় টিএসপি/ডিএপি,
এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সমান তিন ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি
চারা রোপনের ৭-১০ দিন পর, ২য় কিস্তি রোপনের ২৫-৩০ দিন পর ও ৩য় কিস্তি কাইচথোড় আসার
৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।
গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড়
আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার
উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
Ø ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি
কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।
Ø ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক)
৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া
ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।
৬. আগাছা দমনঃ
তিনটি অপশনঃ
•
হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা
তিনবার হাত নিড়ানি।ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫
দিন পর একবার
•
আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি
বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত
নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট
ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।
•
নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে
আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০সেমি ×২০ সেমি) ধান
লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত
দিয়ে নিড়ানি।
৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ
আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে
সম্পুরক সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে
পরিপক্ক পর্যায়ের দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের
জন্য জমিতে অবশ্যই সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।