ব্রি ধান৪৪

আমন

ব্রি ধান৪৪
মৌসুম
আমন
শস্য বিন্যাস
বোরো-পতিত-রোপা আমন, বোরো- রোপা আউশ-রোপা আমন, পতিত-পতিত-রোপা আমন
জমির ধরন
উঁচু ও মধ্যম উঁচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা অঞ্চলের জন্য উপযোগী
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

ব্রি ধান৪৪ একটি আমন ধানের জাত। এর কৌলিক সারি বিআর৬১১০-১০-১-২: এটি দক্ষিণাঞ্চলের অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা কবলিত এলাকার জন্য উপযোগী রোপা আমন ধানের জাত। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট  বিআর১০ এবং ব্রি ধান৩১ এর মধ্যে সংকরায়ণ ঘটিয়ে বংশানুক্রম বাছাই প্রক্রিয়ায় ২০০৫ সালে ব্রি ধান৪৪ জাতটি উদ্ভাবন করেছে।

জাতের বৈশিষ্ট্য

 এটি মধ্যমমাত্রার আলোক-সংবেদনশীল জাত। ব্রি ধান৪৪ এর গাছ বেশ লম্বা, উচ্চতায় ১৩০ সে.মি.। কান্ড শক্ত থাকায় সহজে হেলে পড়ে না। ধান মোটা ও উজ্জ্বল সোনালী বর্ণের।

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

ব্রি ধান৪৪ এর বিশেষত্ব যথা, এর উচ্চতা, হেলে না পড়া, ভাল ফলন ও স্থানীয়ভাবে সমাদৃত মোটা চালের কারণে জাতটি দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বি আর১১ এর মতই এ ধান স্বাভাবিক রোপা আমন ধান হিসাবে চাষ করা যায়, তবে দক্ষিণের জোলাসমূহের অলবণাক্ত জোয়ার-ভাটা কবলিত এলাকাগুলোতে যেখানে ৫০-৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত জোয়ারের পানি আসে বিশেষ করে সেখানে চাষের উপযোগী।

জীবনকাল

১৪৫দিন

ফলন

গড় ফলন হেক্টর প্রতি প্রায় ৫.৫ টন। স্থানীয় জাত মৌলতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেশী, এমনকি ঐ অঞ্চলে অন্য দুটি উফশী জাত বিআর১১ ও ব্রি ধান৩১ এর চেয়ে হেক্টর প্রতি ১.০ টন ফলন বেশী দেয়।

অ্যামিলোজ

২৭.২%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ২৪ জুন-১৫ জুলাই

২. চারার বয়স ও রোপন দুরত্বঃ ৩০-৪০ দিন এবং চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২৫সেমি

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ২৪ জুলাই – ২৫ আগস্ট

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি

৫. সার ব্যবস্থাপনা

এটি একটি দীর্ঘ ও মধ্যম মেয়াদী রোপা আমন ধানের জাত

সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা (কেজি/বিঘা): ২৬-৮-১৪-৯

জমি তৈরির শেষ চাষে সমূদয় টিএসপি/ডিএপি, এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সমান তিন ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি চারা রোপনের ৭-১০ দিন পর, ২য় কিস্তি রোপনের ২৫-৩০ দিন পর ও ৩য় কিস্তি কাইচথোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড় আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Ø  ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি।ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০সেমি ×২০ সেমি) ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে সম্পুরক সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপক্ক পর্যায়ের দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের জন্য জমিতে অবশ্যই সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ১৫-২৫ অগ্রহায়ণ (২৯ নভেম্বর-৯ ডিসেম্বর)