ব্রি ধান৪৬

আমন

ব্রি ধান৪৬
মৌসুম
আমন
শস্য বিন্যাস
বোরো-পতিত-রোপা আমন, বোরো-রোপা আমন-রোপা আউশ, পতিত-পতিত-আমন, গম-পাট-রোপা আমন, গম-আউশ-রোপা আমন, পেয়াজ-পাট-রোপা আমন
জমির ধরন
উঁচু ও মধ্যম উঁচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
সাধারণত বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চল
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

ব্রি ধান৪৬ বন্যা প্রবণ এলাকায় বন্যা পরবর্তী সময়ে নাবী আমন হিসাবে চাষাবাদের জন্য একটি উফশী ধানের জাত। বিআর২২, বিআর২৩ এবং নাইজারশাইলের মতই একটি আলোক সংবেদনশীল জাত। বিআর১১,স্বর্ণলতা এবং এআরসি ১৪৭৬৬ এর মধ্যে সঙ্করায়নের মাধ্যমে ব্রি ধান৪৬ উদ্ভাবন করা হয়। এ জাতের কৌলিক সারির নাম বিআর ৫২২৬-৬-৩-২। জাতটি আলোক সংবেদনশীল বিধায় এর জীবনকাল মূলত বপন ও রোপণের সময়ের উপর নির্ভরশীল। ব্রি ধান৪৬ এর চাল দেখতে বিআর১১ এর চালের মতই।

জাতের বৈশিষ্ট্য

ব্রি ধান৪৬ বন্যাপ্রবণ এলাকার জন্য নাবী আমন জাত। তীব্র আলোক সংবেদনশীল জাত।

গাছের উচ্চতা প্রায় ১০৫ সে.মি.।

কান্ড মজবুত থাকায় গাছ হেলে পড়ে না।

এ ধানের চাল মাঝারি মোটা ও দেখতে বিআর১১ এর চালের মতই।

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

নাবীতে ব্রি ধান৪৬ চাষ করে কৃষকেরা বিআর২২, বিআর২৩, ইত্যাদি থেকে হেক্টর প্রতি ১.০ টন অধিক ফলন পেতে পারেন।

জীবনকাল

ব্রি ধান৪৬ এর জীবনকাল প্রায় ১৫০ দিন; জাতটি আলোক সংবেদনশীল বিধায় এর জীবনকাল বপন ও রোপনের সময়ের উপর নির্ভরশীল।

ফলন

স্বাভাবিক রোপা আমন হিসাবে আবাদকৃত ব্রি ধান৪৬ এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৫.০ টন। নাবীতে (১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রোপনে) ফলন প্রায় ৩.৫ টন।

অ্যামিলোজ

২৪.৭%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১৫ জুন-৯ আগস্ট

২. চারার বয়স ও রোপন দুরত্বঃ ৩০-৫০ দিন এবং চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২০সেমি অথবা ২০সেমি×২০ সেমি

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ১৫ জুলাই-১৫সেপ্টেম্বর

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি

৫. সার ব্যবস্থাপনা

এটি রোপা আমন মওসুমে নাবীতে রোপন উপযোগী আলোক সংবেদনশীল ধানের জাত

সারের মাত্রাঃইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা (কেজি/বিঘা): ২৩-৯-১৩-৮

জমি তৈরির শেষ চাষে ২/৩ অংশ ইউরিয়া এবং সমূদয় টিএসপি/ডিএপি, এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ইউরিয়া কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড় আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Ø  ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি।ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০সেমি ×২০ সেমি) ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে সম্পুরক সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপক্ক পর্যায়ের দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের জন্য জমিতে অবশ্যই সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ১৫-৩০ অগ্রহায়ণ (২৯ নভেম্বর-১৪ ডিসেম্বর)