ব্রি ধান৫১
আমন
- মৌসুম
- আমন
- শস্য বিন্যাস
- বোরো-পতিত-রোপা আমন, পতিত-পতিত-রোপা আমন, সরিষা-বোরো-রোপা আমন, গম-পাট-রোপা আমন, পেঁয়াজ-পাট-রোপা আমন, সরিষা-আউশ-রোপা আমন, পতিত-আউশ-রোপা আমন
- জমির ধরন
- মধ্যম উঁচু ধাপ-২ জমির জন্য অধিক উপযোগী
- উপযুক্ত এলাকা
- সাধারণত বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চল। বন্যা প্রবণ মধ্যম উঁচু ধাপ-২ জমির জন্য অধিক উপযোগী।
জাত পরিচিতি
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট ও আর্ন্তজাতিক ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউটের যৌথ সহযোগিতায় এই জাতটি উদ্ভাবন করে। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষায় দেশের আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে রোপা আমন মৌসুমে ১০ থেকে ১৫ দিন জলমগ্ন হলে প্রচলিত স্বর্ণা জাত থেকে বেশী এবং স্বাভাবিক (বন্যামুক্ত) পরিবেশে স্বর্ণার ন্যায় সন্তোষজনক ফলন দেয়ায় এটিকে জাত হিসেবে ২০১০ সালে চুড়ান্তভাবে ছাড়করণ করা হয়।
জাতের বৈশিষ্ট্য
ব্রি ধান৫১ জলমগ্নতা সহিষ্ণু রোপা আমন ধানের জাত। এটি স্বল্পমাত্রার আলোক-সংবেদনশীল জাত। এই জাতের ধান ৯০ সে.মি. লম্বা হয়। চাল মাঝারি চিকন, স্বচ্ছ ও সাদা।
বিশেষ প্রয়োজনীয়তা
রোপা আমন মওসুমে এই জাতটি আকস্বিক বন্যায় টানা দুই সপ্তাহ জলমগ্ন অবস্থাতেও বেঁচে থাকতে পারে ও একই ধরণের জলমগ্নতার সমস্যায় প্রচলিত স্বর্ণা জাত থেকে বেশি ফলন দিতে পারে। পক্ষান্তরে, স্বাভাবিক (বন্যামুক্ত) পরিবেশে স্বর্ণার ন্যায় সন্তোষজনক ফলন দেয়। ব্রি ধান৫১ বীজতলায় কিংবা অঙ্গজ বৃদ্ধি পর্যায়ে ১০-১৬ দিন পানিতে ডুবে থাকলেও চারা বা ধান গাছ শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকে ও ফলন দেয়।
জীবনকাল
ফলন
অ্যামিলোজ
চাষাবাদ পদ্ধতি
চাষাবাদ পদ্ধতিঃ
১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ৮-২৯ জুন
২. চারার বয়স
ও রোপন দুরত্বঃ ২৫-৩০ দিন এবং চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২৫সেমি
৩. চারা রোপণের সময়ঃ ৭
জুলাই-২৯ জুলাই
৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি
৫. সার ব্যবস্থাপনা
জলমগ্ন এলাকায় চাষ উপযোগী
আমন ধানের জাত।
সারের মাত্রাঃইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা
(কেজি/বিঘা): ২৬-৮-১৪-৯
জমি তৈরির শেষ চাষে সমূদয় টিএসপি/ডিএপি,
এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সমান তিন ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি
চারা রোপনের ৭-১০ দিন পর, ২য় কিস্তি রোপনের ২৫-৩০ দিন পর ও ৩য় কিস্তি কাইচথোড় আসার
৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।
গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড়
আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার
উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
Ø ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি
কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।
Ø ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক)
৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া
ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।
৬. আগাছা দমনঃ
তিনটি অপশনঃ
•
হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা
তিনবার হাত নিড়ানি।ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫
দিন পর একবার
•
আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা
পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি-
ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স
আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।
•
নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে
আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০সেমি ×২০ সেমি) ধান
লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত
দিয়ে নিড়ানি।
৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন
ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে সম্পুরক
সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপক্ক পর্যায়ের
দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের জন্য জমিতে অবশ্যই
সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।