ব্রি ধান৫৩

আমন

ব্রি ধান৫৩
মৌসুম
আমন
শস্য বিন্যাস
বোরো-পতিত-রোপা আমন, বোরো- রোপা আউশ-রোপা আমন, পতিত-পতিত-রোপা আমন
জমির ধরন
উঁচু ও মধ্যম উঁচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জোয়ার-ভাটা অঞ্চলের জন্য উপযোগী
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

ব্রি ধান ৫৩ বাংলাদেশের উপকূলীয় লবণাক্ত ও মাঝারি নিচু অঞ্চলের রোপা আমন মৌসুমে চাষাবাদ উপযোগী একটি জাত। ২০১০ সালে জাতটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট জাতটি উদ্ভাবন করে এবং বীজ বোর্ড থেকে অনুমোদন পায়।

জাতের বৈশিষ্ট্য

ব্রি ধান৫৩ আমন মওসুমের জন্য লবণাক্ততা সহিষ্ণু আগাম জাত।

জাতটি প্রজনন পর্যায়ে ৬ ডিএস/মি মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে।

এর উচ্চতা ১০৫ সে.মি.।

এ জাতটির চাল মাঝারি চিকন, ভাত খেতে সুস্বাদু।

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

এ জাতটি বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মাঝারি উঁচু জমির চিংড়ি ঘেরের মধ্যে চাষ করার উপযোগী।

জীবনকাল

এ জাতটির জীবনকাল ১২৫ দিন এবং অপর লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত ব্রি ধান৪১ এর তুলনায় ১০ দিন আগাম।

ফলন

এর ফলন হেক্টর প্রতি ৪.৫ টন।

অ্যামিলোজ

২৫.৯%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১-১৫ জুলাই

২. চারার বয়স ও রোপন দুরত্বঃ ২৫-৩০ দিন এবং চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২৫সেমি

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ২৫ জুলাই – ১০ আগস্ট

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/ ৩ টি

৫. সার ব্যবস্থাপনা

এটি একটি দীর্ঘ ও মধ্যম মেয়াদী রোপা আমন ধানের জাত

সারের মাত্রাঃইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা (কেজি/বিঘা): ২৬-৮-১৪-৯

জমি তৈরির শেষ চাষে সমূদয় টিএসপি/ডিএপি, এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সমান তিন ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি চারা রোপনের ৭-১০ দিন পর, ২য় কিস্তি রোপনের ২৫-৩০ দিন পর ও ৩য় কিস্তি কাইচথোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড় আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Ø  ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি।ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০সেমি ×২০ সেমি) ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে সম্পুরক সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপক্ক পর্যায়ের দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের জন্য জমিতে অবশ্যই সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ১৭ কার্তিক - ১ অগ্রহায়ণ (১ - ১৫ নভেম্বর)