ব্রি ধান৫৮

বোরো

ব্রি ধান৫৮
মৌসুম
বোরো
শস্য বিন্যাস
বোরো-পতিত-রোপা আমন, বোরো-পতিত-পতিত, বোরো- রোপা আউশ -রোপা আমন, সরিষা-বোরো-রোপা আমন, সরিষা-বোরো-পতিত, বোরো-বোনা আমন, পতিত-আউশ-রোপা আমন
জমির ধরন
সেচ নির্ভর উঁচু ও মাঝারি উঁচু, এবং মাঝারি নিচু ও নিচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
সাধারণত বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চল
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

 ব্রি ধান৫৮এর কৌলিক সারি নং- BRRI dhan29-SC3-28-16-4-HR2। উক্ত কৌলিক সারিটি সোমাক্লোনাল ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে উদ্ভাবিত। উক্ত ভ্যারিয়েন্ট প্রথমত ব্রি ধান২৯ এর চাল থেকে ল্যাবরেটরীতে টিসু কালচার পদ্ধতির মাধ্যমে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে উক্ত ভ্যারিয়েন্ট গ্রীণ হাউজে স্থানান্তর করে জন্মানোর  ফলে প্রাপ্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করা হয়। উক্ত বীজ বর্ধন করে বৃহৎ পরিসরে জন্মানো হয় এবং প্রচলিত পদ্ধতিতে কৌলিক বাছাই এর মাধ্যমে চুড়ান্ত কৌলিক সারি নির্বাচন করা হয়। কৌলিক সারিটি প্রজনন প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নিরীক্ষা ও দেশের বিভিন্ন অ লে বোরো মৌসুমে ব্রি ধান২৮ ও ব্রি ধান২৯ জাতের চাষাবাদ উপযোগী এলাকায় ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হওয়ায় ২০১২ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বোরোর জাত হিসাবে অনুমোদিত হয়।

জাতের বৈশিষ্ট্য

পূর্ণবয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০০ সেমি।

চাল ব্রি ধান২৯ এর মতো তবে মাঝারী মোটা।

এক হাজার ধানের ওজন: ২৪ গ্রাম

অ্যামাইলোজ: ২৬%

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

ব্রি ধান৫৮ এর জীবনকাল ব্রি ধান২৮ এর চেয়ে ৬-৭ দিন নাবি কিন্তু ব্রি ধান২৯ জাতের চেয়ে ৭-১০ দিন আগাম। ব্রি ধান৫৮ মাঝারী ঢলে পড়া প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন যা ব্রি ধান২৮-এ নাই। এ জাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শিষ থেকে ধান ঝরে পড়ে না। পরিপক্ক শিষগুলো ডিগপাতার উপরে অবস্থান করে বিধায় পুরো ক্ষেত দেখতে খুব আকর্ষনীয় এবং অধিক ফলনশীল।

জীবনকাল

১৫০ দিন

ফলন

ফলন হেক্টর প্রতি প্রায় ৭.২ টন

অ্যামিলোজ

২৬%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১৫ নভেম্বর - ৪ ডিসেম্বর (কৃষি অঞ্চল এবং ইকো সিস্টেম ভেদে ভিন্ন হতে পারে)

২. চারা বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ ৩৫-৪০ দিন, চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২৫ সেমি  অথবা ২০ সেমি×২০ সেমি

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ২০ডিসেম্বর- ১৫ জানুয়ারী (কৃষি অঞ্চল এবং ইকো সিস্টেম ভেদে ভিন্ন হতে পারে)

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি সুস্থ সবল চারা

৫. সার ব্যবস্থাপনা (কেজি/বিঘা): ইউরিয়া-টি এস পি/ ডি এ পি- এম ও পি-জিপসাম-দস্তা (মনো হাইড্রেট); ৩৫-১২-২০-১৫-১.৫

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ তিনবার হাত নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪৫ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪৫ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ চারা রোপনের ১৫ দিন পর থেকে কাইচ থোড় অবস্থা পর্যন্ত জমিতে এডব্লিউডি পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করতে হবে। কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপূর্ন ফুল আসা পর্যন্ত জমিতে দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে। স্থানভেদে ধান পরিপক্ক হওয়ার ১০-১৫ দিন পূর্বে সেচ প্রদান বন্ধ করতে হবে এবং জমি থেকে দাঁড়ানো পানি বের করে দিতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ১৫ - ২৫ বৈশাখ (২৮ এপ্রিল - ৮ মে)