ব্রি ধান৬১

বোরো

ব্রি ধান৬১
মৌসুম
বোরো
শস্য বিন্যাস
বোরো-পতিত-পতিত, বোরো-পতিত-রোপা আমন, বোরো- রোপা আউশ-রোপা আমন- সরিষা-বোরো-রোপা আমন, সরিষা-বোরো-পতিত
জমির ধরন
সেচ নির্ভর উঁচু, মধ্যম উঁচু এবং মধ্যম নিচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জোয়ার-ভাটা অঞ্চলের জন্য উপযোগী
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

ব্রি ধান৬১ এর কৌলিক সারি নং- BR7105-4R-2। উক্ত কৌলিক সারিটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক IR64419-3B-4-3 Ges BRRI dhan29 এর সঙ্করায়ণের এবং কৌলিক বাছাই (Pedigree Selection) এর মাধ্যমে উদ্ভাবিত। প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতিতে চুড়ান্ত কৌলিক সারি নির্বাচন করা হয়। জাতটি দেশের বিভিন্ন লবণাক্ততা প্রবণ অঞ্চলে বোরো মৌসুমে ব্রি ধান৪৭জাতের চাষাবাদ উপযোগী এলাকায় চাষের উপযোগী। জাতটি ২০১৩ সালে জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বোরো মৌসুমে জন্য অনুমোদন লাভ করে।

জাতের বৈশিষ্ট্য

চারা অবস্থায় ১২-১৪ ডিএস/মি (৩ সপ্তাহ পর্যন্ত) এবং অংগজ বৃদ্ধি থেকে প্রজনন পর্যায় পর্যন্ত ৮ ডিএস/মি লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। গাছের উচ্চতা ৯৫ সেমি। চালের আকার মাঝারি চিকন।

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

ব্রি ধান৬১ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো চারা অবস্থায় ১২-১৪ ডিএস/মি (৩ সপ্তাহ পর্যন্ত) লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। উপরন্ত এ জাতটি অংগজ বৃদ্ধি থেকে প্রজনন পর্যায় পর্যন্ত লবণাক্ততা সংবেদনশীল সকল ধাপে ৮ ডিএস/মি মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করে ফলন দিতে সক্ষম যা প্রচলিত উচ্চ ফলনশীল জাত ব্রি ধান২৮ পারে না। এ জাতটি ব্রি ধান৪৭ এর মতো লবণ সহ্য করতে পারে তবে এর দানা মাঝারি চিকন ও শীষ থেকে ধান সহজে ঝরে পড়ে না।

জীবনকাল

এ জাতের গড় জীবনকাল ১৫০ দিন

ফলন

ব্রি ধান৬১ লবনাক্ততার মাত্রা ভেদে হেক্টর প্রতি ৩.৮-৭.৪ টন ফলন দিতে সক্ষম, যা ব্রি ধান২৮ এর থেকে ১.৫ টন/হেক্টর বেশি।

অ্যামিলোজ

২২%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১৫-২৯ নভেম্বর (কৃষি অঞ্চল এবং ইকো সিস্টেম ভেদে ভিন্ন হতে পারে)

২. চারা বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ ৩৫-৪০ দিন, চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২০ সেমি  অথবা ২০ সেমি×২০ সেমি

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ২০ ডিসেম্বর- ১০ জানুয়ারি (কৃষি অঞ্চল এবং ইকো সিস্টেম ভেদে ভিন্ন হতে পারে)

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি সুস্থ সবল চারা

৫. সার ব্যবস্থাপনা (কেজি/বিঘা): ইউরিয়া-টি এস পি/ ডি এ পি- এম ও পি-জিপসাম-দস্তা (মনো হাইড্রেট); ৩৫-১২-২০-১৫-১.৫( স্বল্প জীবনকাল জাতের জন্য); ৪০-১৩-২২-১৫-১.৫ (দীর্ঘ মেয়াদি জাতের জন্য)

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০ সেমি ×২০ সেমি) ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ চারা রোপনের ১৫ দিন পর থেকে কাইচ থোড় অবস্থা পর্যন্ত জমিতে এডব্লিউডি পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করতে হবে। কাইচথোড় অবস্থা থেকে পরিপূর্ন ফুল আসা পর্যন্ত জমিতে দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে। স্থানভেদে ধান পরিপক্ক হওয়ার ১০-১৫ দিন পূর্বে সেচ প্রদান বন্ধ করতে হবে এবং জমি থেকে দাঁড়ানো পানি বের করে দিতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ১-১৫ বৈশাখ (১৪ - ২৮ এপ্রিল)