ব্রি ধান৬৫

আউশ

ব্রি ধান৬৫
মৌসুম
আউশ
শস্য বিন্যাস
পতিত-রোপা আউশ-রোপা আমন, খেসারী/মুগ-রোপা আউশ-রোপা আমন,গম-রোপা আউশ-রোপা আমন
জমির ধরন
উঁচু ও মধ্যম উঁচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
সাধারণত বৃষ্টিবহুল অঞ্চল
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

ব্রি ধান ৬৫ এর কৌলিক সারি OM1490। কৌলিক সারিটি OM606 এবং IR44592-62-1-1-3 এর সংকরায়নের মাধ্যমে Vietnam এ প্রজনন পদ্ধতিতে বংশানুক্রমিক কৌলিক বাছাই প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবিত। উক্ত কৌলিক সারিটি  বাংলাদেশ ধান গবেষনা  ইনস্টিটিউট গাজীপুরে Vietnam হতে INGER-material হিসেবে IRRI থেকে প্রাপ্ত হয়ে প্রজনন প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নিরীক্ষা ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় কৃষকের মাঠে ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক হওয়ায় বোনা আউশ মৌসুমে ব্রি ধান৪২ ও ব্রি ধান৪৩ জাতের চাষাবাদ উপযোগী খরাপ্রবণ এলাকায় সরাসরি মাঠে বপনের জাত হিসেবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।

জাতের বৈশিষ্ট্য

গাছের উচ্চতা ৮৮ সে.মি.। চাল মাঝারি চিকন, সাদা।

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

খরা সহিষ্ণু আগাম বোনা আউশের ধানের জাত।

জীবনকাল

৯৯দিন

ফলন

গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৩.৫ টন

অ্যামিলোজ

২৬.৮%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ

 

২. চারাবয়স ও রোপণ দূরত্বঃ ১৫-২০ দিন, চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২০সেমি / ২০সেমি×২০ সেমি

 

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ২৪ মার্চ- ২৩ এপ্রিল

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি সুস্থ সবল চারা

৫. সার ব্যবস্থাপনা

এটি বোনা আউশ ধানের একটি জাত

সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা (কেজি/বিঘা): ১৮-৭-১১-০-০

জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ইউরিয়া সার এক তৃতীয়াংশ, টিএসপি/ডিএপি ও এমওপি সারের পুরোটা মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। ২য় কিস্তি ইউরিয়া সার (১/৩) সাধারণত রোপনের ১৫ দিন পর এবং শেষ কিস্তি (১/৩ ইউরিয়া) ইউরিয়া সার কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড় আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Ø  ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে। ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০ সেমি ×২০ সেমি) ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ বৃষ্টিনির্ভর আউশ মওসুমে সময়মতো চারা রোপনের জন্য প্রয়োজনে সম্পুরক সেচ প্রদান করে জমি তৈরি করতে হবে পরবর্তিতে অঙ্গজ বৃদ্ধি পর্যায়ে বৃষ্টি না হলে সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে

.ফসল পাকা কর্তনঃ ২০ আষাঢ় - ২০ শ্রাবণ ( জুলাই - আগষ্ট)