ব্রি ধান৭৩

আমন

ব্রি ধান৭৩
মৌসুম
আমন
শস্য বিন্যাস
বোরো-পতিত-রোপা আমন, বোরো- রোপা আউশ-রোপা আমন, পতিত-পতিত-রোপা আমন
জমির ধরন
উঁচু ও মধ্যম উঁচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত জোয়ার-ভাটা অঞ্চলের জন্য উপযোগী
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

ব্রি ধান৭৩ এর কৌলিক সারি নং IR78761-B-SATB1-28-3-24। উক্ত কৌলিক সারিটি সাতক্ষীরার লবণাক্ত অঞ্চলে প্রচলিত প্রজনন পদ্ধতিতে কৌলিক বাছাই (Pedigree Selection) এর মাধ্যমে চূড়ান্ত কৌলিক সারি নির্বাচন করা হয়। কৌলিক সারিটি গবেষণাগারে ও দেশের বিভিন্ন লবণাক্ততা প্রবণ অঞ্চলে ব্যপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং কৃষকের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আমন মৌসুমে বিআর৫৩ জাতের চাষাবাদ উপযোগী অঞ্চলে ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল দেয়ায় জাত হিসেবে ২০১৪ সালে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়।

জাতের বৈশিষ্ট্য

গাছের গড় উচ্চতা ১২০ সে.মি.। ব্রি ধান৭৩ এর চাল মাঝারি চিকন, ভাত সুস্বাদু।

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

লবণাক্ততা সহিষ্ণু, আগাম আধুনিক ধানের জাত।

জীবনকাল

১২৫দিন

ফলন

উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে লবণাক্ত জমিতে ব্রি ধান৭৩ হেক্টর প্রতি গড়ে ৩.৫ টন ফলন দিতে পারে। তবে, কম লবণাক্ত জমিতে সর্বোচচ ৬.০ টন/হেক্টর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

অ্যামিলোজ

২৭%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১৪-৩০ জুলাই

২. চারা বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ ৩০-৩৫ দিন; চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২০ সেমি

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ২১-আগস্ট -৩০ আগস্ট

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি সুস্থ সবল চারা

৫. সার ব্যবস্থাপনা

এটি একটি জিংক সমৃদ্ধ আমন ধানের জাত

সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা (কেজি/বিঘা): ২৬-৮-১৪-৯

জমি তৈরির শেষ চাষে সমূদয় টিএসপি/ডিএপি, এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সমান তিন ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি চারা রোপনের ৭-১০ দিন পর, ২য় কিস্তি রোপনের ২৫-৩০ দিন পর ও ৩য় কিস্তি কাইচথোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড় আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Ø  ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০ সেমি ×২০ সেমি) ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে সম্পুরক সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপক্ক পর্যায়ের দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের জন্য জমিতে অবশ্যই সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ১-১৫ অগ্রহায়ণ (১৫-২৯নভেম্বর)