ব্রি ধান৭৯

আমন

ব্রি ধান৭৯
মৌসুম
আমন
শস্য বিন্যাস
বোরো-পতিত-রোপা আমন, পতিত-পতিত-রোপা আমন, সরিষা-বোরো-রোপা আমন, গম-পাট-রোপা আমন, পেঁয়াজ-পাট-রোপা আমন, সরিষা-আউশ-রোপা আমন, পতিত-আউশ-রোপা আমন
জমির ধরন
মধ্যম উঁচু ধাপ-২ জমির জন্য অধিক উপযোগী
উপযুক্ত এলাকা
সাধারণত বাংলাদেশের প্রায় সকল অঞ্চল। মধ্যম উঁচু ধাপ-২ জমির জন্য অধিক উপযোগী।
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

ব্রি ধান৭৯ রোপা আমন মৌসুমের জলমগ্নতা ও জলাবদ্ধতাসহনশীল জাত। এর কৌলিক সারি নং বিআর৯১৫৯-৮-৫-৪০-১৪-৫৭।  ব্রি ধান৪৯ এবং ব্রি ধান৫২ জাতের মধ্যে সংকরায়ন করে Marker-Assisted Backcrossing পদ্ধতিতে উদ্ভাবন করা হয়েছে। জাতটি ২০১৭ সালে রোপা আমন মৌসুমে চাষাবাদের জন্য অনুমোদিত হয়।

জাতের বৈশিষ্ট্য

গাছের উচ্চতা ১১২ সে.মি

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

জলমগ্নতা ও জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু রোপা আমন জাত। গাছের বৃদ্ধি পর্যায়ে এই জাতের আকার ও আকৃতি প্রায় ব্রি ধান৪৯ জাতের মত তবে, দানা ব্রি ধান৪৯ থেকে কিছুটা মোটা।

জীবনকাল

এ জাতের জীবনকাল বন্যামুক্ত পরিবেশে ১৩৫ দিন তবে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বন্যায় ডুবে থাকলে ১৬০ দিন।

ফলন

ফলন বন্যামুক্ত পরিবেশে ৫.৫ টন/হেক্টর এবং তিন সপ্তাহ পর্যন্ত বন্যায় ডুবে থাকলে ৪.০-৪.৫ টন/হেক্টর।

অ্যামিলোজ

২৫.২%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১৫-৩০ জুন

২. চারা বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ ২৫-৩০ দিন; চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২৫ সেমি

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ১০ জুলাই-১৫ আগস্ট

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি সুস্থ সবল চারা

৫. সার ব্যবস্থাপনা

এটি একটি রোপা আমন ধানের জাত

সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা (কেজি/বিঘা): ২৬-৮-১৪-৯

জমি তৈরির শেষ চাষে সমূদয় টিএসপি/ডিএপি, এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সমান তিন ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি চারা রোপনের ৭-১০ দিন পর, ২য় কিস্তি রোপনের ২৫-৩০ দিন পর ও ৩য় কিস্তি কাইচথোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড় আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Ø  ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

৬. আগাছা দমনঃতিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০ সেমি ×২০ সেমি) ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে প্রয়োজনে সম্পুরক সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপক্ক পর্যায়ের দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের জন্য জমিতে অবশ্যই সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ১২-২৭ কার্তিক (২৭ অক্টোবর – ১১ নভেম্বর)