ব্রি ধান৮৩

আউশ

ব্রি ধান৮৩
মৌসুম
আউশ
শস্য বিন্যাস
পতিত-রোপা আউশ-রোপা আমন, খেসারী/মুগ-রোপা আউশ-রোপা আমন,গম-রোপা আউশ-রোপা আমন
জমির ধরন
মধ্যম উঁচু ও মধ্যম নিচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
বৃষ্টিবহুল অঞ্চল এবং খরা প্রবণ অঞ্চল। নোয়াখালি ও ফেনীর চরাঞ্চলের জন্য বিশেষ উপযোগী
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

 ব্রি ধান৮৩ ব্রি উদ্ভাবিত বোনা আউশের একটি জাত। এর কৌলিক সারি নং - BR6848-3B-12। উক্ত কৌলিক সারিটি BR24 এবং BR1890-12-2-1-1-HR-45 এর সংকরায়নের মাধ্যমে Modified Bulk ও পরবর্তীতে কোলিক বাছাই(Pedigree Selection)  প্রক্রিয়ায়   উদ্ভাবন করা হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষনা  ইনস্টিটিউটে উক্ত সারিটির গবেষণা কার্যক্রম ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন প্রজনন পদ্ধতি এবং মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন কর হয়। জাতটি ২০১৭ সালে জাতীট বীজ বোর্ড থেকে অনুমোদিত হয়। ব্রি ধান৮৩ দেশের খরাপ্রবণ এলাকা বিশেষ করে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা এলাকায় সরাসরি বপনযোগ্য ধান।

জাতের বৈশিষ্ট্য

গাছের উচ্চতা ১০৫ সে.মি

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

ব্রি ধান৮৩ বোনা আউশ মওসুমে চারা অবস্থায় মধ্যম মাত্রার খরা সহনশীল ধানের জাত। এ ধানের দানার রং স্থানীয় কটকতারা জাতের মতো লালচে। এ জাতের শীষে পুষ্ট দানার সংখ্যা ব্রি ধান৪৩ এর চেয়ে গড়ে ৪০-৪৫টি বেশী এবং শীষ থেকে ধান সহজে ঝরে পড়ে না।

জীবনকাল

১০৩ দিন

ফলন

হেক্টর প্রতি ৪.০-৫.৩ টন

অ্যামিলোজ

২৬%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ২৯ মার্চ- ২১ এপ্রিল

২. চারা বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ   বোনা 

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ১৮ এপ্রিল-১০ মে

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি সুস্থ সবল চারা

৫. সার ব্যবস্থাপনা

খরা প্রবন এরাকায় চাষ উপযোগী একটি বোনা আউশের জাত

সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা (কেজি/বিঘা): ১৮-৭-১১-০-০

জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ইউরিয়া সার এক তৃতীয়াংশ, টিএসপি/ডিএপি ও এমওপি সারের পুরোটা মাটিতে প্রয়োগ করতে হবে। ২য় কিস্তি ইউরিয়া সার (১/৩) সাধারণত রোপনের ১৫ দিন পর এবং শেষ কিস্তি (১/৩ ইউরিয়া) ইউরিয়া সার কাইচ থোড় আসার ৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।

গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড় আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

Ø  ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।

Ø  ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০ সেমি ×২০ সেমি) ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ বৃষ্টিনির্ভর আউশ মওসুমে সময়মতো চারা রোপনের জন্য প্রয়োজনে সম্পুরক সেচ প্রদান করে জমি তৈরি করতে হবে। পরবর্তীতৈ অঙ্গজ বৃদ্ধি পর্যায়ে বৃষ্টি না হলে সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ২৫ আষাঢ় - ৩০ শ্রাবণ (৯ জুলাই - ১৪ আগষ্ট)