ব্রি ধান৮৪

বোরো

ব্রি ধান৮৪
মৌসুম
বোরো
শস্য বিন্যাস
বোরো-পতিত-রোপা আমন, বোরো-পতিত-পতিত, বোরো- রোপা আউশ -রোপা আমন, সরিষা-বোরো-রোপা আমন, সরিষা-বোরো-পতিত, বোরো-বোনা আমন, পতিত-আউশ-রোপা আমন
জমির ধরন
সেচ নির্ভর উঁচু ও মাঝারি উঁচু, এবং মাঝারি নিচু ও নিচু জমি
উপযুক্ত এলাকা
লবণাক্ত এলাকা ব্যতিত বাংলাদেশের সকল অঞ্চল। সেচের পানির ঘাটতি এলাকায় উপযোগী
তুলনা করতে লগইন করুন জাত তালিকায় ফিরুন

জাত পরিচিতি

ব্রি ধান ৮৪ এর কৌলিক সারি BR7831-59-1-1-4-5-1-9-P1। উক্ত জাতটি বাংলাদেশ ধান গবেষনা  ইনস্টিটিউট গাজীপুরে BRRI dhan29/IR681444/BRII dhan28/BR11 এর সংকরায়নের  পর বংশানুক্রম সিলেকশন (Pedigree Selection)  এর মাধ্যমে উদ্ভাবন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফলন পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফলাফল পাওয়ায় জাতীয় বীজ বোর্ড জাতটিকে ২০১৭ সালে সাধারণ পর্যায়ে বোরো মৌসুমে চাষাবাদের জন্য অনুমোদিত করে।

জাতের বৈশিষ্ট্য

অঙ্গজ অবস্থায় এই জাতের গাছের আকার ও আকৃতি প্রায় ব্রি ধান২৮ এর মত। পরিপক্ক অবস্থায় ধানের শীষ ডিগ পাতার উপরে থাকে বিধায় ক্ষেত দেখতে খুব আকর্ষণীয় হয়। চালের পেরিকার্পের রঙ লালচে ও আকার-আকৃতি ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিরই চালের মত।

বিশেষ প্রয়োজনীয়তা

ব্রি ধান৮৪ বোরো মওসুমে চাষাবাদের জন্য জিংক সমৃদ্ধ ধানের জাত। চালের পেরিকার্পের রঙ লালচে ও আকার-আকৃতি ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিরই চালের মত। ব্রি ধান৮৪ এর প্রতি কেজি চালে ২৭.৬ মিলিগ্রাম জিংক রয়েছে, যা প্রচলিত অন্যান্য জাতের চেয়ে প্রায় ৮.২ মিলিগ্রাম/কেজি বেশী।

জীবনকাল

১৪১ দিন

ফলন

গড়ে হেক্টরে ৬.০-৬.৫ টন/হেক্টর, দেয় যা উন্নততর পরিচর্যায় হেক্টরে ৮.০ টন পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

অ্যামিলোজ

২৫.৯%

চাষাবাদ পদ্ধতি

১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১৫-২৯ নভেম্বর (কৃষি অঞ্চল এবং ইকো সিস্টেম ভেদে ভিন্ন হতে পারে)

২. চারা বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ ৩৫-৪০ দিন, চারার দূরত্ব ১৫ সেমি×সারির দূরত্ব ২০ সেমি  অথবা ২০ সেমি×২০ সেমি

৩. চারা রোপণের সময়ঃ ২০ ডিসেম্বর- ১০ জানুয়ারি (কৃষি অঞ্চল এবং ইকো সিস্টেম ভেদে ভিন্ন হতে পারে)

৪. চারার সংখ্যাঃ ২/৩ টি সুস্থ সবল চারা

৫. সার ব্যবস্থাপনা (কেজি/বিঘা): ইউরিয়া-টি এস পি/ ডি এ পি- এম ও পি-জিপসাম-দস্তা (মনো হাইড্রেট); ৩৫-১২-২০-১৫-১.৫ (স্বল্প জীবনকাল জাতের জন্য); ৪০-১৩-২২-১৫-১.৫ (দীর্ঘ মেয়াদি জাতের জন্য)

৬. আগাছা দমনঃ

তিনটি  অপশনঃ

        হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা তিনবার হাত নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫ দিন পর একবার

        আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।

        নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০ সেমি ×২০ সেমি) ধান লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে নিড়ানি।

৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ চারা রোপনের ১৫ দিন পর থেকে কাইচ থোড় অবস্থা পর্যন্ত জমিতে এডব্লিউডি পদ্ধতিতে সেচ প্রদান করতে হবে। কাইচ থোড় অবস্থা থেকে পরিপূর্ন ফুল আসা পর্যন্ত জমিতে দাঁড়ানো পানি রাখতে হবে। স্থানভেদে ধান পরিপক্ক হওয়ার ১০-১৫ দিন পূর্বে সেচ প্রদান বন্ধ করতে হবে এবং জমি থেকে দাঁড়ানো পানি বের করে দিতে হবে।

. ফসল পাকা ও কর্তনঃ ২২ চৈত্র - ৭ বৈশাখ (৫ - ২০ এপ্রিল)