ব্রি ধান৯১
আমন
- মৌসুম
- আমন
- শস্য বিন্যাস
- বোরো-পতিত-রোপা আমন, বোরো-রোপা আমন-রোপা আউশ, পতিত-পতিত-আমন, গম-পাট-রোপা আমন, গম-আউশ-রোপা আমন, পেয়াজ-পাট-রোপা আমন
- জমির ধরন
- মধ্যম উঁচু ধাপ-২ ও মধ্যম নিচু জমি
- উপযুক্ত এলাকা
- দেশব্যাপী বিস্তৃত স্বল্প গভীর বন্যাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য উপযোগী
জাত পরিচিতি
ব্রি ধান ৯১ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতন আবিষ্কৃত উচ্চ ফলনশীল জলি আমন ধানের জাত। এর কৌলিক সারি নং BR10230-15-27-7B। তিলোক-কাচারি( মধ্যম মাত্রার স্টেম ইলেঙ্গশন ও মধ্যম মাত্রার জলমগ্নতা সহিষ্ণু) এবং ব্রি ধান৪১ এর মধ্যে সংকরায়ন মাধ্যমে এবং কৌলিক বাছাই (Pedigree Selection) পদ্ধতিতে ব্রি ধান৯১ উদ্ভাবিত হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে উক্ত জাতটির গবেষণা শুরু হয় ২০০৯ সালে। এটি অগভীর বন্যায় টিকে থাকতে পারে এবং স্থানীয় বোনা আমন ধানের চেয়ে প্রতি হেক্টরে ১-১.৫ টন বেশি ফলন দিয়ে থাকে। ২০১৯ সালে জাতটিকে বীজ বোর্ড থেকে অনুমোদন দেয়া হয়।
জাতের বৈশিষ্ট্য
গাছের উচ্চতা ১৮০ সে.মি.
বিশেষ প্রয়োজনীয়তা
জীবনকাল
ফলন
অ্যামিলোজ
চাষাবাদ পদ্ধতি
১. বীজতলায় বীজ বপনঃ ১ মে- ৭ জুন
২. চারা বয়স ও রোপণ দূরত্বঃ ছিটিয়ে
ও সারিতে।
৩. চারা রোপণের সময়ঃ ১মে- ৭
জুন
৪. চারার সংখ্যাঃ ২৫-৩০
কেজি/ হেক্টর
৫. সার ব্যবস্থাপনা
এটি একটি রোপা আমন ধানের জাত
সারের মাত্রাঃ ইউরিয়া-টিএসপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম-দস্তা
(কেজি/বিঘা): ২৬-৮-১৪-৯
জমি তৈরির শেষ চাষে সমূদয় টিএসপি/ডিএপি,
এমওপি ও জিপসাম প্রয়োগ করতে হবে। ইউরিয়া সমান তিন ভাগে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি
চারা রোপনের ৭-১০ দিন পর, ২য় কিস্তি রোপনের ২৫-৩০ দিন পর ও ৩য় কিস্তি কাইচথোড় আসার
৫-৭ দিন পূর্বে প্রয়োগ করতে হবে।
গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে কাইচথোড়
আসার সময় যদি নাইট্রোজেনের অভাব পরিলক্ষিত হয়ে তবে বিঘা প্রতি ৪-৫ কেজি ইউরিয়া সার
উপরি প্রয়োগ করা যেতে পারে।
Ø ডিএপি সার ব্যবহার করলে সব ক্ষেত্রেই প্রতি
কেজিতে ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম প্রয়োগ করলেই হবে।
Ø ধানের জমি তৈরির সময় বিঘা
প্রতি (৩৩ শতক) ৩০০ কেজি জৈব সার যেমন-ধইঞ্চা, আবর্জনাপচা সার, পচা
গোবর, নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যকটেরিয়া ব্যবহার করলে
রাসায়নিক সারের ব্যবহার শতকরা ২০-৩০ ভাগ কমানো সম্ভব।
৬. আগাছা দমনঃ
তিনটি অপশনঃ
•
হাত নিড়ানিঃ দুইবার বা
তিনবার হাত নিড়ানি। ধান লাগানোর ১২-১৫ দিন পর একবার, ৩০-৩৫ দিন পর একবার এবং যদি প্রয়োজন হয়, ৪০-৪৫
দিন পর একবার
•
আগাছানাশক প্রয়োগঃ প্রি
বা পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক প্রয়োগ এবং পরবর্তিতে ৩৫-৪০ দিন পর একবার হাত
নিড়ানি। প্রি- ইমারজেন্স আগাছানাশক জমিতে আগাছা জন্মানোর আগে (৩-৫দিন পর) এবং
পোস্ট ইমারজেন্স আগাছানাশক জন্মানোর পর (৮-২০ দিন) প্রয়োগ করতে হবে।
•
নিড়ানি যন্ত্রের সাহায্যে
আগাছা দমনঃ লাইন করে (২০ সেমি ×২০ সেমি) ধান
লাগানোর ১৫-১৮ দিন পর নিড়ানি যন্ত্রের ব্যাবহার এবং পরে ৩০-৪০ দিন পর একবার হাত দিয়ে
নিড়ানি।
৭. সেচ ব্যবস্থাপনাঃ আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর হলেও চারা রোপনের উপযুক্ত সময়ে বৃষ্টি না হলে
প্রয়োজনে সম্পুরক সেচ দিয়ে রোপন করতে হবে। ধানের প্রজনন পর্যায়ের কাইচ থোড় অবস্থা
থেকে পরিপক্ক পর্যায়ের দুধ অবস্থা পর্যন্ত অনাবৃষ্টিজনিত খরা দেখা দিলে কাঙ্খিত ফলনের
জন্য জমিতে অবশ্যই সম্পূরক সেচ প্রদান করতে হবে।